Monday, January 22, 2024

আর নয় অপারেশন, ভালোবাসা দিয়ে হার্ট বাঁচান

হার্টে ৯৫% ব্লকেজ হওয়ার পরও ন্যাচারাল বাইপাস থ্যারাপির মাধ্যমে
আমার সুস্থ হবার গল্প

হঠাৎ হার্ট এটাক

প্রচন্ড বুকের ব্যথায় হঠাৎই যখন বুঝলাম আমার নি:শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে তখন অনেক দেড়ি হয়ে গেছে। চিংড়ি মাছের বাকী অর্ধেকটা তখনো আমার হাতেই ধরা। কোন প্রকারে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাড়ালাম। কয়েক জন ধরাধরি করে শুইয়ে দিলো। কি হলো, কি করবে, কিছুই বোঝা যাচ্ছেনা আকস্মিক এই ঘটনায়। গ্যাসের ঔষধ খাওয়ানো হলো, মাথায় পানি দেয়া হলো, হাতে-পায়ে ঘষাঘষি করা হলো। কিছুতেই যেনো কিছু হচ্ছেনা। এমন করে প্রায় ঘন্টাখানেক পর বুকের ব্যাথা কিছুটা কমে আসলো এবং এক সময় সেরেও গেলো। প্রেসার মাপা হলো, ডায়াবেটিক মাপা হলো, কিন্তু সব কিছুই স্বাভাবিক। অথচ কেউই জানতে পারলোনা অতি গোপনে আমার হার্টে একটা বড়সড়ো এটাক হয়ে গেছে। আমার হার্টের মুল আর্টারির একটাতে ব্লক হতে হতে ১০০% ব্লক হবার সাথে সাথেই আমি আক্রান্ত হলাম মারন ঘাতক সেই হার্ট এটাকে।


চিকিৎসা শুরু ও বাইপাস অপারেশন

ঘটনাটা ২০১৭ সালের শেষে দিকের। এরপর ঘটনাটা সংক্ষিপ্ত মাস খানেকের মধ্যে আবারো বুকের প্রচন্ড ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হলো। সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত ডাক্তার আমাকে গ্যাসের ঔষধ এবং ব্যাথা কমানোর ঔষধ ও ইনজেকশন দিতেই থাকলো। অবশেষে জানানো হলো রুগির অবস্থা মারাত্মক, তাকে অতিসত্বর ঢাকা মুভ করতে হবে। যদিও অতিসত্বর ঘোষনা দিতে দিতে আমার অবস্থা চুড়ান্ত খারাপে চলে গেছে। অথচ, ঢাকায় সাধারণ একটা হাসপাতালে সাধারণ ২টি টেষ্ট করে জানতে পারা গেলো যে আমার হার্ট এটাক হয়েছে। যেহেতু হাসপাতালে সিসিইউ নেই তাই প্রাথমিক কিছু ঔষধ খাইয়ে (৪টি ইকোস্প্রিন) আমাকে সিসিইউ আছে এমন একটি হাসপাতালে রেফার করা হলো।


এরপরের ঘটনা অন্য সবার ক্ষেত্রে যা ঘটে আমার ক্ষেত্রেও তাই হলো। সিসিইউতে ভর্তি করা, এনজিওগ্রাম করা, হার্টে ৬-৭ টা ব্লক ধরা পরা এবং করনীয় হিসেবে দ্রুত CABG অর্থাৎ বাইপাস অপারেশন করা। ২৫ দিন পর যখন হাসপাতাল থেকে বের হলাম তখন বুকের মাঝ বরাবর উপর-নিচ তালি দেয়া অর্থাৎ সেলাই করা। বুকের ভেতরে পাজরের হাড়গুলো গ্রিনডিং মেশিন দিয়ে কেটে এরপর তার দিয়ে গিট্ট দিয়ে কোনরকমে জোড়া লাগানো। ২-৩ মাস ঘরে/বাসায় বসে-শুয়ে কাটালেও কিছুটা খুশি এই ভেবে যে, হাসপাতাল থেকে আমাদেরকে জানিয়েছে- “ওপেন হার্ট করিয়েছেন, আর চিন্তা নেই, এখন নতুন জীবন পাবেন”। সুস্থ্য জীবনের স্বপ্নে বিভোর হয়ে কেটে গেলো ৩টা মাস। 


আবারো হার্ট ব্লক: হতাশা

এরপর হঠাৎই বুকে ব্যাথা আর চাপ শুরু হলো। আৎকে উঠলাম। এমনতো হবার কথা নয়। নতুন জীবনে এ কিসের উৎপাত। স্বপ্ন ভাগা মন নিয়ে আবারো হাসপাতালে গেলাম। ডাক্তার আমার সিমটম শুনে বললেন- “এমনতো হবার কথা নয়”। আত্মীয়-স্বজনরা অপারেশন করেছি যে হাসপাতালে সেটাকে “রাজাকার” হাসপাতাল বলে গালি দিয়ে নিজেদের উস্মা প্রকাশ করলেন। সব হিসাব শেষে আবারো এনজিওগ্রাম করার সিদ্ধান্ত হলো। এবার সবার কথামতো নামকরা হাসপাতালে এনজিওগ্রাম করালাম। জানালো- ড্রাফটিং অর্থাৎ বাইপাস ঠিকই ছিলো কিন্তু আবারো সব ব্লক হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৭-৮টা ব্লক, রিডো অর্থাৎ আবারো বাইপাস করতে হবে। মাথায় মনে হলো সাত আসমান ভেংগে পরলো। আমি চরম ভাবে জীবনের উপর আশা হারালাম। এক বুক/বুকের হাড্ডি কতবার কাটাবো? তাছাড়া যেখানে অপারেশনের পর আমার নতুন জীবন পাবার কথা সেখানে নতুন জীবন যে ৩ মাসের ব্যবধানে শেষ হয়ে যাবে সেটা হজম করতে হচ্ছিলো। পুরোপুরি নিরাশায় ডুবে গেলাম। 


কোনো ভাবে বেঁচে থাকার চেষ্টা

মানুষ নতুন করে আশা বাঁধতে বেশি সময় নেয় না। আমিও নিলাম না। বিভিন্ন সার্জন ও স্পেশালিষ্ট এর সাথে কথা বললাম। তাদের জানালাম আর বাইপাস সার্জারি করতে চাইনা। অনেকে স্টেন্টিং অর্থাৎ রিং পরার পরামর্শ দিলো। অসম্মতি জানিয়ে বল্লাম- ২৩ বছর আগে বিয়ের সময় রিং পড়েছি, আর কোন রিং ফিং পড়তে চাইনা। আর যেখানে নতুন নালি লাগিয়েও ৩ মাসের মধ্যে ব্লক হয়ে যায় সেখানে স্টেন্টিং করে কতটা ব্লক কাটাবো? আর কদিন পরে পরে নতুন নতুন ব্লকের জন্য আবারো কতগুলাই রিং পড়বো? তাই সামনের যেটুকু সময় পারি ঔষধ খেয়েই কোনো রকমে বেচে থাকার ব্যর্থ চেষ্টা করার সিদ্ধান্ত নিলাম। শুরু হলো প্রতিদিন ৯টা থেকে ১১টা ঔষধ খাওয়া। 


২০১৮ সালের মার্চ মাসে বাইপাস হয়েছে, ৩ মাস পরে আবারো ব্লক হয়েছে। এরপর থেকে যে সার্জন আমার সার্জারি করেছে তার প্রেসক্রিপশন মোতাবেক ঔষধ খাওয়া শুরু করলাম ২০১৮ এর শেষ থেকে। প্রতিদিন ঔষধ খাচ্ছি, খাওয়া যতটা সম্ভব নিয়ন্ত্রন করছি কিন্তু শারিরিক কোন প্রকার প্রেগ্রেস হচ্ছেনা। বরং দিন দিন আমার শরিরের বিভিন্ন ধরনের উপসর্য দেখা দিতে লাগলো। বিশেষ করে মাজা থেকে শরীরের নিচের অংশ সরু হতে লাগলো, শরীর দুর্বল হতে থাকলো, প্রতি ৬-৭ মাস অন্তর অন্তর চোখের চশমার পাওয়ার বাড়তে লাগলো ইত্যাদি। সবচাইতে যে সমস্যাটা বেশি হতো তা হলো স্বাভাবিক হাটাচলা অনেকটাই কষ্টকর হলে উঠলো। অল্প কিছু হাটলেই চিহ্বার নিচে স্প্রে দিতে হয়। অল্পতেই হাপিয়ে উঠি, খাবার সময়, ঘুমানোর সময় এমনকি বসা থেকে উঠতে গেলেও প্রচন্ড শ্বাস কষ্টের কারনে বুকে ব্যথা উঠে এবং তখন স্প্রে নেয়া ছাড়া কোন উপায় থাকে না।


অবস্থা খারাপের দিকে

এমন করে ২০২৩ এর নভেম্বর অর্থাৎ অপারেশনের ৫ বছর পর অনুভব করতে থাকি আমার বুকের ব্যথা এবং শ্বাস কষ্টের পরিমান হঠাৎ করেই আরো বেড়ে গেছে এবং স্প্রে দিয়েও ব্যথা দুর হচ্ছেনা। এমনও হলো যে দিনে ১০/১২ বার করে জিহ্বার নিচে নাইট্রোজেন স্প্রে করা লাগলো কিন্তু তারপরো আমি স্বাভাবিক ভাবে চলাচল করতে পারছিনা। ডাক্তারের কাছে গেলাম, টেস্ট করালাম। ধরা পরলো হার্টের পাম্পিং ক্ষমতা একেবারের কমে এসেছে। অপারেশনের সময় যে পাম্পিং শক্তি ছিলো ৫১%-৫৫% সে ক্ষমতা কমে ৪১% এ এসে ঠেকেছে যা হার্টের জন্য খুবই ঝুঁকিপুর্ণ। সার্জন আমাকে জানালো আমার যেহেতু বাইপাস সার্জারি হয়েছে এবং আর্টারিতে ব্লকের পরিমান অনেক বেশি সেহেতু পুনরায় বাইপাস কিংবা রিং পরিয়ে কোন লাভ হবেনা। এভাবে ঔষধ খেয়েই যেতে হবে যতদিন পারা যায়। কিন্তু আমি চাইলে এনজিওগ্রাম করে কয়েকটা রিং পরে নিতে পারি।


আমি জানতে চাইলাম, যেখানে আমার বাইপাস করে নতুন নালি লাগানোর পর সে নালিও ৩ মাসের মাথায় বন্ধ/ব্লক হয়ে যাচ্ছে এবং আমার আর্টারিতে পুরোনো অনেক ব্লক সহ নতুন নতুন ব্লক তৈরী হচ্ছে সেখানে আমি এখন ৩/৪ টা রিং পরিয়ে কিভাবে নিশ্চিত হতে পারি যে আমি সুস্থ্য থাকবো? ডাক্তার এর কোন স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেনি। আমি ভালো পরামর্শের আশায় দেশের প্রথম সারির ৩/৪টা হাসপাতালের একটিতে ২০০০/- টাকা ভিজিট দিয়ে এশিয়ার সেরা সার্জনকে দেখালাম। আমার কাগজপত্র দেখে তিনি আমার সাথে ২/১টি প্রশ্ন করারও প্রয়োজন বোধ করলেন না। জাষ্ট বলে দিলেন- “ঔষধ খেতে থাকেন, এর চাইতে বেশি কিছু করার নেই”।


আমি চরমভাবে নিরাশ হলাম এবং সিদ্ধান্তহীনতায় পরে গেলাম। প্রচলিত চিকিৎসা বিশেষ করে বাইপাস, রিং এর সচরাচর ঔষধের উপর আমার চরম বিরক্ত ধরে গেলো। বুঝলাম ডাক্তারের দৌড় এ পর্যন্তই। 


এরপর ১টা মাস বিভিন্ন ডাক্তার, হার্টের পুরোনো রুগি, ইন্ডিয়া যাবার জন্য পাসপোর্ট, ভিসা ইত্যাদি করতে ব্যয় করলাম। কিন্তু আমার হার্টের কন্ডিশন দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। চলাফেরায় স্থবিরতা এসেছে, টেনশন বেড়েছে অনেকগুন। মাঝে মাঝে ব্যথায় অস্থির হয়ে পরে থাকি। কি করবো বুঝতে পারছিনা। এর মধ্যে ইন্ডিয়ান ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিলো। অনেক সময় নিচ্ছে ওরা ভিসা দিতে।


দিশেহারা হয়ে পথ খোজাখুজি

অনলাইনে খোঁজ খবর করছি অন্য কোন চিকিৎসা আছে কিনা যার মাধ্যমে আমি বেচে থাকার কোন পথ পাবো। খুজতে খুজতে দেখলাম ইন্ডিয়া সহ অনেক উন্নত দেশে হার্টের চিকিৎসায় একটি ব্যতিক্রম চিকিৎসা রয়েছে যা থেকে প্রচুর মানুষ উপকৃত হচ্ছে এবং কোন প্রকার ব্যথা ও অপারেশন ছাড়াই এ চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে। কৌতুহলী হলে খোজ করতে থাকলাম। আশ্চার্য হয়ে দেখলাম ইন্ডিয়ায় ১০-১৫ বছর ধরে এ চিকিৎসা খুবই সুনাম অর্জন করেছে। কিছু রুগির সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারলাম প্রায় ৯০% রুগিই এ চিকিৎকা গ্রহন করে সুস্থ্য হয়েছে এবং লম্বা সময় ধরে ভালো আছে। আরো আশ্চার্য হলাম আমাদের বাংলাদেশেও এমন চিকিৎসাকেন্দ্র রয়েছে যারা গত ১০/১২ বছর ধরে মানুষকে সেবা দিয়ে আসছে। আমি খুবই আশ্চার্য হলাম এ কারনে যে, আমার পরিচিত/অপরিচিত যত ডাক্তার আছে যাদের সাথে কথা হয়েছে তারা সবাই এ চিকিৎসার ব্যপারে নিরুৎসাহিত করেছে এবং এর বিপরীতে কথা বলেছে। 


আমার সিদ্ধান্ত নেয়ার পালা

ভেবে দেখলাম বাইপাস করে, ৫ বছর লম্বা সময় ঔষধ খেয়েও যে সিস্টেম আমাকে সুস্থ্যত করতে পারেইনি বরং আমাকে ধীরে ধীরে মৃত্যু অথবা পঙ্গুত্বের দিকে এগিয়ে যাবার পথই সাজেষ্ট করেছে তাদের উপর আমি কেনো আর ভরসা করবো? নতুন চিকিৎসা পদ্ধতিতে যেহেতু কোন অপারেশন নেই, কোন ঔষধ নেই এবং বেশির ভাগ রুগি শেষ পর্যায়ে আর কোন পথ না পেয়ে এ চিকিৎসা নিয়ে উপকৃতই হচ্ছে সেহেতু আমিও দেখতে চাই। আমার কাছের কিছু স্বজ্জন এবং পরিবারের লোকজনের ঐকান্তিক চাওয়ার কারনে আমি এই অজানা এবং আমার কাছে একেবারে নতুন সেই চিকিৎসা পদ্ধতিতে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিলাম। 


চিকিৎসার নাম EECP

২০২৩ এর ডিসেম্বর এর ২৪ তারিখ এসে আমি সেই চিকিৎসা অর্থা EECP (Enhanced external counterpulsation) থ্যারাপি যাকে বলা হয় ন্যাচারাল বাইপাস থ্যারাপিতে ভর্তি হলাম। যেহেতু আমি নিজই একজন ভুক্তভুগি রুগি এবং ওদের এ চিকিৎসা আমি নিজ দায়িত্বে নিয়েছি এবং ৩৫ দিনের কোর্স সম্পুর্ণ রুপে শেষ করেছি সেহেতু আমি এখন বলতেই পারি এ চিকিৎসা কতটা কার্যকর এবং প্রচলিত নিয়মের চিকিৎসা থেকে এর মুল পার্থক্যগুলো কোথায়।


আমি আমার বিবেক এবং বিবেচনা থেকে এ চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চাই মুলত কয়েকটি কারনে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণগুলো:

০১। এর মাধ্যমে আমি খুবই খারাপ অবস্থা থেকে প্রায় সম্পুর্ণ সুস্থ্য হয়েছি।

০২। এর কোন পার্শপ্রতিক্রিয়া আমি পাইনি যা আমাকে চিন্তিত, বিচলিত কিংবা অসুস্থ্য করেছে।

০৩। এ চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পুর্ণ বৈজ্ঞানিক এবং আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান কর্তৃক গবেষনাকৃত।

০৪। এ চিকিৎসা ব্যয় কিছুটা বেশি হলেও তুলনামুলক কম কিন্তু সহনিয়।

০৫। এ চিকিৎসা নিতে আসা প্রায় ১০-১৫ জনের সাথে আমি ব্যক্তিগত ভাবে এবং সরাসরি কথা বলে নিশ্চিত হয়েছি যে তারা এ চিকিৎসা গ্রহন করে উপকৃত হয়েছেন এবং লম্বা সময় ধরে ভালো আছেন।

০৬। যেহেতু এ চিকিৎসায় কোনো অপারেশন কিংবা কাটা ছেড়া নেই সেহেতু যেকোন বয়সের এবং ধরনের মানুষ এ চিকিৎসা সহজেই নিতে পারেন।

০৭। যেহেতু এ চিকিৎসার মুল পরিকল্পনাই হলো- রুগিকে সাময়িক নিরাময় করা নয়, রোগ নির্নয় করে সে রোগের কারনগুলো সম্পুর্ণভাবে খুজে বের করে চিরতরে নির্মুল করা সেহেতু রুগি এখান থেকে চিকিৎসা নিয়ে যাবার পরবর্তী জীবনে কিভাবে ভালো থাকবেন এবং আর কখনো চিকিৎসার জন্য ডাক্তার কিংবা হাসপাতালের প্রয়োজন হবেনা সেগুলো নিশ্চিত করাই এ চিকিৎসার মুল কাজ ও লক্ষ্য।

০৮। সবচাইতে বড় কারন হলো- আমি নিজে এ চিকিৎসা নিয়ে আমার দৈনন্দিন চলাফেরা, খাওয়া, ঘুম, ব্যায়াম-ইয়োগা-মেডিটেশন, সুস্থ্য চিন্তা, পজেটিভ জীবন দর্শন ও বেচে থাকার আকর্ষন খুজে পেয়েছি যা ৩৫ দিনের চিকিৎসা সময়ে আমাকে সুন্দর ভাবে চর্চা করার পাশাপাশি বুঝিয়ে ও শিখিয়ে দেয়া হয়েছে।


সাধারণত হার্টেল চিকিৎসা ৪ ধরনের। যেমন-

০১। নিয়মিত ঔষধ খাওয়া

০২। হার্টের ব্লকেজে রিং পরানো

০৩। ওপেন হার্ট সার্জারি তখা বাইপাস

০৪। ন্যাচারাল বাইপাস অর্থাৎ প্রাকৃতিক ভাবে হার্টকে কর্মক্ষম করে তোলা।


প্রথম তিনটি পদ্ধতি হলো বর্তমানে সাধারণত যে পদ্ধতিতে হার্টের চিকিৎসা হয়ে থাকে সেগুলো। এগুলো সম্পর্কে আমরা সবাই কম-বেশি জানি। তাছাড়া এ পদ্ধতিগুলোর উপর ভিত্তি করেই বর্তমানে চিকিৎসার সব ধরনের আয়োজন দেখা যায়। আপনি হার্টের রোগ নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেলে প্রাথমিক ভাবে আপনাকে কিছু টেষ্ট করতে দিবে। সে টেস্টে যদি বোঝা যায় আপনার হার্টে কিছু ছোট-বড় সমস্যর সিমটম রয়েছে তখন ডাক্তার আপনাকে এনজিওগ্রাম করার জন্য বলবে। এটা যদিও কোন অপারেশন নয় কিন্তু মোটামোটি ভাবে অপারেশনের একটা আয়োজন বলা যেতে পারে। হাতে কিংবা কোমরে নালিতে কেনোলা বসিয়ে এর মধ্য দিয়ে চিকন নল হার্টের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দিয়ে স্কেনারের মাধ্যমে বের করা হয় আপনার হাটে কোথায় কোথায় এবং কতটা ব্লকেজ আছে। এবং ডাক্তাররা যদি মনে করে সে ব্লকেজের মাত্রা অনেক বেশি এবং রিং পরাতে হবে তবে সেই এনজিওগ্রাম এর নল আপনার শরিরে লাগানো অবস্থায়ই আপনাদের সাথে উনারা কথা বলবেন এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ডাক্তাররা যতটা রিং পড়ানো ভালো মনে করেন সে সংখ্যক রিং পড়াতে রুগির সজনেরা অনেকটা বাধ্যই হন। কারণ সময় এবং সিচুয়েশনটা এমন থাকে যেখানে রিস্ক এবং ইমোশন কঠিন ভাবে কাজ করে।

এক্ষেত্রে ডাক্তার যদি মনে করে মুল আর্টারিতে একাধিক ও বেশি পরিমান ব্লকেজ আছে তখন তারা রিং পরানো বাদ দিয়ে উপেনহার্ট সার্জারি করে সে সকল যায়গায় এক বা একাধিক বাইপাস করে ড্রাফট করেন। অপেক্ষাকৃত বাইপাস সার্জারিতে রুগি ভালো হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে।


চতুর্থ যে পদ্ধতি তা হলো ন্যাচারাল বাইপাস থ্যারাপি যা কোন প্রকার অপারেশন কিংবা কাটাছেড়া ছাড়া করা হয়ে থাকে। আমি যেভাবে ন্যাচারার বাইপাস থ্যারাপি নিয়েছি এবং সুস্থ্য হয়েছি তার সম্পুর্ণ বিবরণ ধাপে ধাপে বর্ণনা করার চেষ্টা করবো। আমি জানি আমার আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সহ কাছের দুরের অনেকই আমার এই চিকিৎসা সম্পর্কে আমার কাছ থেকে জানার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে। শুধু তাদের জন্য অথেনটিক ইনফরমেশনটা জানানোর জন্যই আমার এই লেখা। 


ন্যাচারার বাইপাস থ্যারাপি (EECP) কোথায় ও কিভাবে হয় তা বিস্তারিত জানানোর আগে এ চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে আমি যা যা জেনেছি তা সংক্ষেপে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

  • প্রথমে হার্টের রুগির হার্টের অবস্থা সম্পর্কে জেনে নেয়া হয় সিটি এনজিওগ্রাম টেস্ট এর মাধ্যমে।

  • এরপর ডাক্তার, থ্যারাপি স্পেশালিষ্ট, ডায়াটিসিয়ান এবং এক্সপার্টদের সাথে আলোচনা ও পর্যালোচনা করে রুগির সিচুয়েশন এবং চিকিৎসার কোর্স নির্ধারন করা হয়। রুগি এবং রুগির ধরনভেদে চিকিৎসার কোর্স আলাদা আলাদা হয়।

  • সাধারণত এই চিকিৎসার মেয়াদ ৩৫ দিনের হয়ে থাকে। রুগির রোগের অবস্থাভেতে এটা কম-বেশি হতে পারে।

  • বেশিরভাগ রুগিদের ক্ষেত্রে ওনারা চিকিৎসায় ৯ ধরনের সো প্রদান করে থাকেন।

    • মেডিসিন থ্যারাপি- সঠিক ঔষধ, সঠিক মাত্রায় ও সঠিক নিয়মে সেবন ও প্রেকটিস।

    • EECP থ্যারাপি- শরিরের রক্তচলাচল এর যাত্রাপথ সুগম এবং হার্টের পাম্পিং গতি বাড়ানো সহ হার্টে রক্ত চলাচলের জন্য নতুন নতুন পথ তৈরীর জন্য বিশেষ ভাবে তৈরী EECP মেশিনের মাধ্যমে প্রতিদিন একটানা ১ ঘন্টা থ্যারাপি দেয়া হয়।

    • অক্সিজেন থ্যারাপি- বিশেষ ভাবে তৈরী এবং প্রসেস করা অক্সিজেন দিয়ে ফুসফুসক ও হার্টকে দ্রুত সুস্থ্য করে তোলার জন্য প্রতিদিন ১ ঘন্টা করে অক্সিজেন থ্যারাপি দেয়া হয়।

    • চিলেশান/স্যালাইন থ্যারাপি- রক্তনালিকে পরিস্কার ও ব্লকমুক্ত করার জন্য এই ক্লিনজিং অর্থাৎ স্যালাইন থ্যারাপি দেয়া হয়। এটি রুগিকে দ্রুত ব্লকমুক্ত করতে খুবই কার্যকরী সহায়তা করে।

    • ব্যায়াম-ইয়োগা থ্যারাপি- বলা হয়ে থাকে ন্যাচারালা বাইপাস প্রক্রিয়ার সবচাইতে কার্যকরী অংশ হলো এই ব্যায়াম ও ইয়োগা থ্যারাপি। প্রতিদিন ১ ঘন্টা খুবই অভিজ্ঞ শিক্ষকের তত্বাবধানের ব্যায়াম-ইয়োগা থ্যারাপি পরিচালিত হয়।

    • মেডিটেশন থ্যারাপি- এর মাধ্যমে একজন মানুষ তার মনের ও ইচ্ছার উপর কন্ট্রোল করার ক্ষমতা অর্জন করে। প্রতিদিন সকালে ব্যায়ামের সাথে এই মেডিটেশন থ্যারাপি দেয়া হয়ে থাকে।

    • পরিকল্পিত খাদ্যভাস/ ডায়েট থ্যারাপি- উচ্চতা, বয়স, ওজন আর কাজের ধরনের উপর ভিত্তিক করে একজন ডায়েট এক্সপার্ট খাদ্য তালিকা তৈরী করে এবং সে অনুযায়ী প্রতিদিন ৪ বেলা তাকে সে খাদ্য দেয়া হয়। এখানে উল্লেখ্য যে, সে খাদ্য সম্পুর্ণ তেল ছাড়া বিশেষ ব্যবস্থাপনায় রান্না করা হয়।

    • ওয়াকিং থ্যারাপি- প্রতিদিন যতটা প্রয়োজন ততটা হাটার অভ্যাস করার জন্য বাইরে এবং রানার মেশিনে অনুশীলন করা হয়।

    • প্লেজার থ্যারাপি- সপ্তাহে একদিন সকল রুগি এবং স্টাফ একত্র হয়ে একটা সময় নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন পন্থায় যেমন- গান, কৌতক, ভিডিও ও অন্যান্য ভাবে হাস্যরস এবং আনন্দ দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়।


জেনে নেয়া যাক যারা এ ধরনের চিকিৎসা দিচ্ছেন তারা এ ব্যপারে কি বলছেন। 

  • প্রতিষ্ঠান এর চেয়ারম্যান এর বক্তব্য:

  • সিইও এর বক্তব্য:

  • ডাক্তার এর বক্তব্য:

  • ডায়াটিসিয়ান এর বক্তব্য:

  • থ্যারাপিস্ট এর বক্তব্য:

  • ব্যায়াম-ইয়োগা-মেডিটেশন ওস্তাদ এর বক্তব্য:

  • নার্সদের বক্তব:

  • রাধুনীর বক্তব্য:

0 comments:

Post a Comment